পিরোজপুরে ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও!
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় বিরল শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে এক নবজাতকের জন্ম হয়েছে। দুই হাত ও দুই পা মিলিয়ে শিশুটির মোট ৩০টি আঙুল রয়েছে। পাশাপাশি জন্মগতভাবে তার জিহ্বাও নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে মঠবাড়িয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নবজাতককে একনজর দেখতে হাসপাতালে ভিড় করেন স্বজন ও স্থানীয় কৌতূহলী মানুষ।
শিশুটির বাবা ইসমাইল পালোহন উপজেলার বড় মাছুয়া ইউনিয়নের ভোলমারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর। পরিবারের অন্য সন্তানরা স্বাভাবিক হলেও নবজাতকের শারীরিক গঠন দেখে বিস্মিত হয়েছেন স্বজনরা।
শিশুটির মা জেসমিন আক্তার জানান, ধারদেনা করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছেন তিনি। এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা শিশুটির চিকিৎসার ব্যয় বহন করা। তিনি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত আঙুল নিয়ে জন্ম নেওয়ার অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘পলিড্যাকটিলিজম’ বলা হয়। তবে শিশুটির জিহ্বা না থাকা অত্যন্ত বিরল জন্মগত ত্রুটি এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, উন্নত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিশুটির ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে নবজাতকের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি যারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক, তাদের শিশুটির মা জেসমিন আক্তারের দেওয়া নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাধারণত মানুষের দুই হাত ও দুই পা মিলিয়ে মোট ২০টি আঙুল থাকে। তবে মঠবাড়িয়ায় জন্ম নেওয়া এই নবজাতকের হাতে ১৬টি এবং পায়ে ১৪টি আঙুল রয়েছে।