গাইবান্ধায় যুবদল নেতার শাবলের আঘাতে ইউনিয়ন শিবির সভাপতি নিহত
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাইফুল্লাহ বারী (৩২) নামে ছাত্রশিবিরের এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার বন্ধু সালাউদ্দিন (৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে। তিনি রংপুরের ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদ্রাসার তৃতীয় বর্ষের আল-কুরআন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।
অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার ভাই পলাশ বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে মুকুল ও তার ভাই পলাশ সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা চালান। এ সময় পলাশ লোহার শাবল দিয়ে সাইফুল্লাহর গলায় আঘাত করেন। হামলায় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু সালাউদ্দিনও আহত হন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধু মোবাশ্বের জানান, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। এ বিষয়ে বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় সাইফুল্লাহ বারী গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মুকুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ফেরদাউস সরকার রুম্মন বলেন, সাইফুল্লাহ বারী সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সাঘাটা থানার তদন্ত কর্মকর্তা পবিত্র কুমার জানান, ঘটনার পর পুলিশের একাধিক দল তদন্তে কাজ করছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।