জুলে রিমের যুগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা
খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনা মানেই সাফল্য, ঐতিহ্য আর শিরোপার প্রতিশ্রুতি। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে জায়গা করে নেয়।
তবে ইতিহাসের পাতায় এমন একটি অধ্যায়ও রয়েছে, যখন বাছাইপর্বের বাধা টপকাতে ব্যর্থ হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।
ঘটনাটি ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপকে ঘিরে। বিশ্বকাপের প্রতিষ্ঠাতা ট্রফি ‘জুলে রিমে’ যুগের সেই আসরে মাঠের লড়াইয়ে হেরে মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই একমাত্র ঘটনা, যখন বাছাইপর্ব খেলেও টুর্নামেন্টে উঠতে ব্যর্থ হয় দক্ষিণ আমেরিকার এই পরাশক্তি।
সেবার দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্ব ছিল তুলনামূলক ছোট আকারের। কয়েকটি ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করে দিত চূড়ান্ত ভাগ্য। ১৯৬৯ সালে বলিভিয়ার কাছে ৩-১ এবং পেরুর কাছে ১-০ গোলে হেরে কঠিন অবস্থায় পড়ে যায় আর্জেন্টিনা।
ফলে শেষ ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না তাদের সামনে।
বুয়েনোস আইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা দুইবার এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র করে। এই ফলের কারণে গ্রুপে পিছিয়ে পড়ে তারা, আর বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে পেরু।
সেই ব্যর্থতার কারণে ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ টেলিভিশনের পর্দায় বসেই দেখতে হয় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই একমাত্র আসর, যেখানে বাছাইপর্বে ব্যর্থ হয়ে মূল পর্বে উঠতে পারেনি দলটি।
তবে আর্জেন্টিনা আরও দুটি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি। ১৯৩৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে আয়োজক নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষের কারণে তারা অংশ নেয়নি, আর ১৯৫০ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাছাইপর্বেও নাম লেখায়নি।
তবুও মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে ধরা হয় ১৯৭০ সালের ঘটনাটিকেই। এরপর থেকে আর কখনো বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আটকে যেতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে।