টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল প্যারাগুয়ে
খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
রোমাঞ্চে ভরা এক লড়াই শেষে টাইব্রেকারে জার্মানিকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ পেরিয়ে ইতিহাস গড়েছে প্যারাগুয়ে। সোমবার (৩০ জুন) ফক্সবরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে সমতায় শেষ হওয়ার পর ভাগ্য নির্ধারণ হয় পেনাল্টি শুটআউটে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হলো জার্মানিকে।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। হুলিও এনসিসোর দারুণ এক হেডে হাফটাইমের আগেই লিড নেয় দলটি। বিরতির পর ৫৪তম মিনিটে কাই হাভার্টজ গোল করে জার্মানিকে সমতায় ফেরান। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল।
অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান টাহর একটি হেডে বল জালে গেলেও ভিএআর পর্যালোচনায় গোলটি বাতিল হয়। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে শেষ হাসি হাসে প্যারাগুয়ে।
পেনাল্টি শুটআউটে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান। তিনি কাই হাভার্টজ ও নিক ভল্টেমাডের শট রুখে দেন। যদিও প্যারাগুয়ের দুই খেলোয়াড়ও সুযোগ নষ্ট করেন। শেষ পর্যন্ত জোনাথান টাহর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে হোসে কানালে সফল শটে প্যারাগুয়ের জয় নিশ্চিত করেন।
২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই প্রথম নকআউট পর্বে খেলতে নেমেছিল জার্মানি। তবে সেই প্রত্যাবর্তন শেষ হলো হতাশাজনক বিদায়ে।
ম্যাচে জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান প্রথম একাদশে সুযোগ দেন ডেনিজ উনডাভকে। বেঞ্চ থেকে নেমে আগের দুই ম্যাচে তিন গোল করা এই স্ট্রাইকার শুরু থেকেই খেললেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। চোট কাটিয়ে বাঁ প্রান্তের রক্ষণে ফেরেন নাথানিয়েল ব্রাউন।
অন্যদিকে, এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা শেষে দলে ফেরেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরন। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী মাঠে মুখ ঢাকার কারণে আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখে নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে প্যারাগুয়ে। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই জুনিয়র আলোনসোর প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। প্রথমার্ধজুড়ে প্যারাগুয়ের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় জার্মানি।
এরই ধারাবাহিকতায় বিরতির আগে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে মাতিয়াস গালারজার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন হুলিও এনসিসো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল প্যারাগুয়ের ইতিহাসের প্রথম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে লেওন গোরেৎজকাকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে জার্মানি। কিছুক্ষণ পর ফ্লোরিয়ান ভার্টজের দারুণ ক্রস থেকে কাই হাভার্টজ গোল করে সমতায় ফেরান দলকে।
শেষ দিকে এনসিসো চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন। অতিরিক্ত সময়েও জার্মানির সেটপিস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও ভিএআর তাদের হতাশ করে।
শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপের টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য অর্জন করে প্যারাগুয়ে। এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। সুইডেনকে হারাতে পারলে পরবর্তী পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স।