বিশ্বকাপ থেকে ২৫০ কোটির বেশি প্রাইজমানি পাচ্ছে কেপ ভার্দে
খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১২ পিএম
ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি দেশের স্বপ্ন, আত্মপরিচয় ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও প্রতীক। চলতি বিশ্বকাপে সেই বাস্তবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে।
মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের দেশটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নিয়েই নজর কেড়েছে বিশ্বজুড়ে। শেষ পর্যন্ত বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়াই করে বিদায় নিলেও মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মোটা অঙ্কের প্রাইজমানিও নিশ্চিত করেছে দলটি।
বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে চমক দেখায় কেপ ভার্দে। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ২-২ গোলে ড্র করে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গেও গোলশূন্য ড্র করে অপরাজিত থেকেই নিশ্চিত করে নকআউট পর্বের টিকিট।
শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কাগজে-কলমে শক্তির পার্থক্য থাকলেও মাঠে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে কেপ ভার্দে। দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুইবারই সমতায় ফেরে দলটি। তবে অতিরিক্ত সময়ের ১১১তম মিনিটে আত্মঘাতী গোলের কারণে ৩-২ ব্যবধানে হার মেনে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হয় তাদের।
তবে মাঠের অভিযান শেষ হলেও অর্জনের পাল্লা ভারী হয়েছে অর্থনৈতিক দিক থেকে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পরও বড় অঙ্কের প্রাইজমানি পাচ্ছে কেপ ভার্দে।
চলতি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের জন্য মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে ফিফা, যা ২০২২ সালের আসরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। ফিফার নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, মূল পর্বে খেলা প্রতিটি দল পাবে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া প্রস্তুতি ও অন্যান্য ব্যয়ের জন্য দেওয়া হবে আরও ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এর পাশাপাশি ছোট ফুটবল দেশগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থাও রেখেছে ফিফা। কেপ ভার্দের মতো দেশগুলো ভ্রমণ, টিকিট ও সাংগঠনিক ব্যয়ের জন্য ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অতিরিক্ত সহায়তা পাবে। আর নকআউট পর্বে ওঠার কারণে আরও ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যুক্ত হবে তাদের প্রাপ্তিতে।
সব মিলিয়ে কেপ ভার্দের মোট প্রাপ্তি দাঁড়াবে অন্তত ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫০ কোটির টাকারও বেশি। এই অর্থ কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন, বয়সভিত্তিক দল গঠন এবং কোচিং ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।