ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা মামলায় প্রধান আসামি গ্রেফতার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলার ১ নম্বর আসামি ফজলুর রহমান বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে আহত থাকায় সদর হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তাদের বিষয়েও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন শিক্ষক থাকায় বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় ফজলুর রহমানসহ চারজনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বিকেলে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার ও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং হাবিবুর রহমান।
এদিকে বুধবার রাতে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হলে পুলিশ ফজলুর রহমানের কাছ থেকে দুই পাতার লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করে। ওই লিখিত বক্তব্যে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে আহত থাকায় তিনি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজের কার্যালয়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন আসমা সাদিয়া রুনা। পরে ঘটনাস্থলেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখতে পান উদ্ধার করতে যাওয়া আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন তার জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর বিকেলে তার স্বামী চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।