সেহরি খেতে গিয়ে মারধরের শিকার ঢাবি শিক্ষার্থী, ফেলে রেখে যায় থানায়
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
সেহরি খেতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে, তাকে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে তুলে নিয়ে কয়েক দফা মারধর করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কিছু নেতাকর্মী। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শাহবাগ থানায় রেখে যাওয়া হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেলের চাবি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরারসহ আরও কয়েকজন।
ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল জানান, তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহরি খেতে গিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত থাকা কয়েকজনের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন তাকে কোনো কারণ ছাড়াই প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে মারধর করে।
তিনি বলেন, তার কোনো দোষ থাকলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা তিনি তাদের বলেছিলেন। কিন্তু তারা তার কথা না শুনে মারধর চালিয়ে যায়।
পাভেলের অভিযোগ, প্রথমে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে তাকে মারধর করা হয়। পরে রিকশায় তুলে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে নিয়ে আবার পেটানো হয়। এরপর তাকে উপাচার্য চত্বরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় এবং রাজু ভাস্কর্যের সামনেও কিছু সময় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে শাহবাগ থানার সামনে ফেলে রেখে যাওয়া হয় এবং সেখানে গেটের সামনেও তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে পুরো ঘটনা স্পষ্ট হবে বলেও জানান তিনি।
রাহিদ খান পাভেল আরও বলেন, মারধরের কারণে তার সারা শরীরে ব্যথা করছে এবং মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তার দাবি, মোটরসাইকেলের চাবি দিয়ে মুখে ঘুষি মারা হয়েছে এবং বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এমনকি মাটিতে ফেলে লাথিও মারা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিয়মিত ক্লাস করেন। প্রয়োজনে তার বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি জানা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ দাবি করেন, পাভেল জিয়া হলে থাকেন এবং গত জুলাইয়ের আন্দোলনে হামলাকারী ছিলেন। তার দাবি, বিভাগ থেকেও তাকে বয়কট করা হয়েছে এবং এর আগেও শিক্ষার্থীরা তাকে থানায় দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি পাভেল ক্যাম্পাসে এসে সাবেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইফতার ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাকে ধরার পর ফোন দেখতে চাইলে তিনি ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রতিক্রিয়া দেখান। এরপর শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে থানায় নিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা মোহাম্মদ সাকিব বলেন, পাভেল ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন এবং ক্যাম্পাসে তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, হল ও বিভাগ উভয় জায়গা থেকেই তাকে বয়কট করা হয়েছে।
তবে পাভেলের ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে অভিযোগকারীরা কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি, তিনি ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন কি না।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. খোকন মিয়া বলেন, একদল শিক্ষার্থী তাকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলে থানায় রেখে গেছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সকাল দশটার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে তিনি জানান।