বিএমইউতে বহিরাগত নিয়ে তালা ভেঙে কক্ষ দখলের চেষ্টা বিএনপিপন্থিদের

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেসিডেন্ট চিকিৎসক হলে তালা ভেঙে বেশ কয়েকটি কক্ষ দখলের চেষ্টা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বহিরাগতসহ অন্তত ২০ জন চিকিৎসকের নেতৃত্বে ভবনের পঞ্চম তলার অন্তত ছয়টি কক্ষের তালা ভাঙা হয়।

এই কক্ষগুলোতে মূলত জামায়াতপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) সংযুক্ত সদস্যরা থাকেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. এম আর হাসান এই দখলের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে তিনি বিএমইউর রেসিডেন্ট চিকিৎসক নন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) তাদের অস্থায়ী হল দখল করে রেখেছিলেন। ওই সময় হলে অবৈধ কার্যক্রমেরও অভিযোগ ছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ড্যাব ও এনডিএফের মধ্যে হলের আসন ভাগাভাগি করে দেয়। এর মধ্যে বড় অংশ ড্যাবের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ভুক্তভোগী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে বহিরাগতসহ একদল চিকিৎসক ছয় তলার একটি ব্লকে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তারা বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে কক্ষের তালা ভাঙার চেষ্টা করেন এবং মোট ছয়টি কক্ষের তালা ভাঙতে সক্ষম হন। এ সময়ে ব্লকের সবাই ডিউটিতে ছিলেন। খবর পেয়ে ফিরে আসার পর দুই দলের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। হুমকিদাতারা আগামীকাল তাদের কক্ষ ছেড়ে দিতে বলেছিলেন।

ভুক্তভোগীরা সংবাদমাধ্যমে নিজেদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকতা প্রকাশ করেছেন। একজন আবাসিক চিকিৎসক বলেন, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। তারা আমাদের হুমকি দিচ্ছিল, কক্ষে ঢুকতে চাইছিল, গায়ে হাত তুলছিল এবং কিছু রেসিডেন্টকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে। যারা এদের সাথে ছিল, তাদের সবাইকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা ৪–৫ জনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি।”

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দখলের সময় তাদের পাঁচটি কক্ষের তালা ভাঙা হয়, আসবাপত্র ধ্বংস করা হয় এবং দুটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইল হারানো যায়। এসময় হুমকিদাতারা জানিয়েছিলেন যে আগামীকাল আবার এসে কক্ষ দখল করবে।

দখলে নেতৃত্বদানকারী ডা. এম আর হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেছেন, “কিছু সাধারণ রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ব্লক দখল করে রেখেছিল। সেখানে কিছু রুম ফাঁকা ছিল, যা দখল করা হয়েছিল। আজ সাধারণ চিকিৎসকরা গিয়ে দেখেন পুরো ব্লক তালা মারা। আমরা সেখানে সমতা নিশ্চিত করতে গিয়েছিলাম। ড্যাবের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত ছিল না।”

ডা. এম আর হাসান আরও বলেন, “আমরা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ছিলাম। আমাদের ছোট ভাই ফোন দিয়ে জানায় যে ব্লক দখলকারীরা তাদের ওপর চড়াও হচ্ছে। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।”

বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ডক্টরস হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ডা. জামাল উদ্দীন আহমদ ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970