আগের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ব্যয় হবে নতুন দুই মেট্রো রেলে
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০২ পিএম
রাজধানীর নতুন দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে যাচ্ছে। উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। সেখানে নতুন দুই প্রকল্পে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট অনুমোদিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে এমআরটি লাইন-১, যা কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ। আর এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর ও গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার বিস্তৃত।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দরপত্রে সীমিত প্রতিযোগিতা। ঋণদাতা দেশের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদার নিয়োগে মূলত জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ থাকায় ব্যয় বেড়েছে।
উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে অনুমোদন পায়, প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। তবে ঠিকাদারদের দর অনুযায়ী ব্যয় বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়।
অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) ২০১৯ সালের অক্টোবরে অনুমোদন পায়। প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা, যা ঠিকাদারদের প্রস্তাব অনুযায়ী বেড়ে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতের বিভিন্ন মেট্রোরেল প্রকল্পে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ১৫০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকার মধ্যে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের ব্যয় অনেক বেশি। বিশেষ করে মিরপুর থেকে কচুক্ষেত এবং কচুক্ষেত থেকে ভাটারা অংশে অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ঠিকাদার নিয়োগে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা না থাকায় ব্যয় বেড়েছে। ঋণের শর্ত পুনর্বিবেচনা করে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ব্যয় কমানো সম্ভব।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে মেট্রোরেলের পাশাপাশি ঢাকায় মনোরেল চালু করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সরকারকে ঠিকাদার নিয়োগ, প্রতিযোগিতা ও ঋণের শর্ত সংশোধনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।