ইসলামী ব্যাংকে চাকরিচ্যুতির আশঙ্কা: সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা অনিশ্চয়তায়
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:০২ পিএম
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে কর্মরত প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা চাকরিচ্যুতির শঙ্কায় রয়েছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আয়োজিত ‘বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা (Special Competency Assessment Test)’-কে তারা গোপন ছাঁটাই প্রক্রিয়া আখ্যা দিয়েছেন। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত তিন মাসে কোনো নোটিশ ছাড়াই প্রায় ১২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এখন নতুন করে আরও সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে বলে কর্মকর্তাদের অভিযোগ।
কর্মকর্তারা জানান, এই পরীক্ষার বৈধতা নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট (নং ১৩৯৭৪/২০২৫) দায়ের করা হয়। আদালত রুল জারি করে স্পষ্টভাবে বলেন, দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নয়, শুধুমাত্র প্রমোশনাল (পদোন্নতি) পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করেই শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বিতর্কিত পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা একযোগে পরীক্ষা বয়কট করেন।
পরীক্ষাকেন্দ্রে ‘নিয়োগ পরীক্ষা চলছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যকর রয়েছে’— এমন ব্যানার টাঙানোয় কর্মকর্তাদের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। তাদের মতে, এটি দক্ষতা যাচাইয়ের নামে ছাঁটাইয়ের পথ সুগম করারই কৌশল।
কর্মকর্তাদের প্রশ্ন ও দাবি
সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তোলেন—
আদালতের রুল বহাল থাকা অবস্থায় কীভাবে পরীক্ষা আয়োজন করা হলো?
বাংলাদেশ ব্যাংক যেখানে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা বলেছিল, সেখানে ২২ সেপ্টেম্বরই কীভাবে সার্কুলার দেওয়া হলো?
কেন শুধুমাত্র চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তাদের টার্গেট করা হলো?
আগে ১৪০০ জন অফিস সহায়ক ও গার্ড-কে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রমোশন দেওয়া হলেও, বছরের পর বছর কর্মরত কর্মকর্তাদের পরীক্ষার মাধ্যমে ছাঁটাইয়ের চেষ্টা কেন?
তাদের দাবি, স্পেশাল কম্পিটেন্সি পরীক্ষা বাতিল করতে হবে, আদালতের নির্দেশ মানতে হবে, প্রমোশনাল প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক এবং সবার চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
নিয়োগ ও প্রমোশনে অনিয়মের অভিযোগ
কর্মকর্তারা আরও অভিযোগ করেছেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে ব্যাংকে নিয়োগ ও প্রমোশনে পক্ষপাতমূলক ও অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে পুরো প্রতিষ্ঠানই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।