মুসাব্বির হত্যার কারণ ও শুটারদের নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানালেন ডিবিপ্রধান

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার কারওয়ান বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বিদেশে পলাতক এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর কাছ থেকে হত্যার সংকেত আসে এবং ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব নেওয়া হয় বলে জানায় ডিবি।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

ডিবি জানায়, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জিন্নাত, মো. বিল্লাল, আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজ—এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিল্লাল ও আব্দুল কাদির আপন দুই ভাই। তাদের আরেক ভাই আব্দুর রহিম পলাতক রয়েছেন এবং তিনিও হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তিন ভাইয়ের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদীর গগুলা গ্রামে। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, জিন্নাত ও রহিমই মুসাব্বির এবং তার সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল ও ৬ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ওই মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ। গ্রেপ্তার রিয়াজের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এবং জিন্নাতের বাড়ি পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে হলেও তারা সবাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করতেন। সোমবার গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

ডিবি জানায়, গত বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের বিপরীতে স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন।

ডিবিপ্রধান বলেন, হত্যার আগের দিন আসামিরা ঘটনাস্থল রেকি করে। রেকিতে সহায়তা করেন রিয়াজ। তবে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। তদন্তে ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, ভৈরব ও কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন খাতে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের চাঁদা ওঠে। বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় এবং তাদের মধ্যে আগেও সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এবারও সেই নিয়ন্ত্রণ দ্বন্দ্ব থেকেই মুসাব্বিরকে টার্গেট করা হয়।

ডিবির দাবি অনুযায়ী, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী শেখ মোহাম্মদ আসলাম ওরফে সুইডেন আসলামের ঘনিষ্ঠজন বিনাশ মালয়েশিয়া থেকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বিল্লালকে হত্যার দায়িত্ব দেন। এরপর পরিকল্পিতভাবে শুটার জিন্নাত ও রহিমসহ অন্য সহযোগীরা হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করে।

ডিবিপ্রধান আরও বলেন, মুসাব্বির সম্প্রতি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছিলেন এবং তিনি রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন। এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে গ্রেপ্তারদের কোনো সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয় নেই বলেও জানান তিনি।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokash2021@gmail.com

মোবাইল: 09658369970