সব বিনিয়োগ সংস্থা একীভূত হয়ে গঠন হবে একক বোর্ড

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:১৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতা দূর করে সহজীকরণের লক্ষ্যে দেশের সব বিনিয়োগ সংস্থাকে একীভূত করে একটি কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিদ্যমান সব বিনিয়োগ সংস্থার পৃথক গভর্নিং বডি বিলুপ্ত করে একটি একক বোর্ড গঠনের কাজ চলছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট আইনসমূহে প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাগুলো। চূড়ান্ত অনুমোদন ও অধ্যাদেশ জারির পর বর্তমান গভর্নিং বডিগুলো বিলুপ্ত হয়ে নতুন বোর্ড কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানা গেছে।


বর্তমানে প্রতিটি বিনিয়োগ সংস্থার গভর্নিং বডির প্রধান হিসেবে আছেন প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা, আর সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধি। একই সদস্যদের উপস্থিতিতেও পৃথক সংস্থা থাকার কারণে আলাদা বোর্ড মিটিং করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সর্বশেষ বোর্ড মিটিং হয়েছিল ২০২০ সালের ৬ আগস্ট এবং পরবর্তী মিটিং অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল—প্রায় পাঁচ বছর পর। ঐ বৈঠকেই সংস্থাগুলোর একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিডা সূত্র জানায়, নতুন একীভূত বোর্ডের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান। তবে একীভূত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাগুলো তাদের বর্তমান কাঠামোয় কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো—একটি সংস্থা থেকেই যেন বিনিয়োগকারীরা সব ধরনের সেবা, তথ্য ও অনুমোদন পেতে পারেন, যাতে কোনো প্রকার হয়রানি বা বিলম্বের শিকার না হন।
বর্তমানে দেশে বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট ছয়টি সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করছে:বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। এ ছয়টি সংস্থাকে একীভূত করে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ বোর্ড গঠনের অনুমোদন ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
একীভূতকরণ প্রক্রিয়া তদারকিতে ৩০ এপ্রিল শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমানকে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে অ্যাটর্নি জেনারেল, বাণিজ্য উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবসহ বিভিন্ন শীর্ষ কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তবে কমিটির প্রথম বৈঠকে বিসিককে একীভূতকরণের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিশেষ করে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর মতো কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের কারণে।
কিছু ইপিজেডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান একীভূতকরণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, কারণ তারা বিশেষ সুবিধা বিবেচনায় সেখানে বিনিয়োগ করেছিল। তবে বিডা কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগ বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা নয় বরং স্বচ্ছতা ও গতি বাড়াবে। নতুন কাঠামোয় চাকরি বা আর্থিক অনিশ্চয়তার কোনো ঝুঁকি থাকবে না বলেও তারা আশ্বস্ত করেন।
নতুন সংস্থার নাম এখনো নির্ধারিত হয়নি। একীভূতকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন, আইনগত জটিলতা নিরসন ও নতুন সংস্থার অর্গানোগ্রাম তৈরির জন্য একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। বেজার ‘প্রাইড’ প্রকল্পের অধীনে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব করা হলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিনিয়োগ খাতে গতি আসবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া হবে সহজ, এবং স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ হবে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য।


প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970