সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে কোনো আর্থিক অনিয়মের তদন্ত পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম তদন্তের সময় তার বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন দেশের সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগতভাবে কোনো পৃথক অনুসন্ধান বা তদন্ত চালানোর পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই।
তবে আরিফ হোসেন খান জানান, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তদন্ত চলমান রয়েছে। এসব তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম কিংবা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনিয়ম চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার প্রতিষ্ঠান জেএমসি বিল্ডার্সের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, আগামী বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্সের মনোনীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরে তিনি ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই সময়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জেএমসি বিল্ডার্সও রয়েছে এবং ওই ঋণের অর্থ এখনো ব্যাংকে পরিশোধ করা হয়নি।