বাংলাদেশ না কেনায় কাঁদছে ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৪৬ পিএম
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বাজারে নেমেছে তীব্র মন্দা। বড় ক্রেতা বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ না নেওয়ায় এবং সৌদি আরব ভারত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দেশটির রপ্তানিকারকরা। এ পরিস্থিতিতে দুটি দেশই পাকিস্তান ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়িয়েছে ফলে নয়াদিল্লির পেঁয়াজ বাজারে তৈরি হয়েছে বড় ধস। এ অবস্থার জন্য ভারত নিজেই দায়ী, এমনটাই জানিয়েছে ইকোনোমিক টাইমস।
রিপোর্টে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত বারবার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর ফলে আমদানিকারী দেশগুলো বিকল্প বাজার খুঁজে নেয়। পাশাপাশি ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ পাচার হয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়, যা ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়ে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। এতে বিশ্ববাজারে ভারতের প্রভাব কমে যাচ্ছে।
পেঁয়াজ বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় বাংলাদেশ ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় বাজার মোট রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশই যেত বাংলাদেশে। অথচ গত ৮ মাসে বাংলাদেশ খুবই কম পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেছে, যদিও দেশের বাজারে দাম তিনগুণ বেশি। সৌদি আরবও গত এক বছরে খুব কম ভারতীয় পেঁয়াজ নিয়েছে। যে বাংলাদেশ একসময় ভারতীয় রপ্তানিকারকদের ‘হাসি ফোটাতো’, এখন সেই বাংলাদেশই নাকি 'কাঁদাচ্ছে' এমন মন্তব্য রপ্তানিকারকদের।
রপ্তানিকারকরা জানান, অবৈধভাবে ভারতীয় বীজ বাংলাদেশসহ ক্রেতা দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব দেশ নিজেরাই উৎপাদন বাড়িয়ে ভারতের আধিপত্যকে দুর্বল করছে।
ভারতীয় রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা বাজারে অনুপস্থিত ছিলাম। আমাদের ঐতিহ্যবাহী ক্রেতারা তখন বিকল্প সরবরাহকারী বানিয়েছেন। এখন তারা কোয়ালিটির দিকে তাকায় না, দাম কত কম সেটাই দেখে।”
২০১৯ সালে ৬ মাস এবং ২০২০ সালে আরও ৫ মাস পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারত। এতে নির্ভরশীল দেশগুলো দামে বিপর্যস্ত হয়। এমনকি ২০২০ সালে বাংলাদেশ কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে নিষেধাজ্ঞার ঘনঘন পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষও জানায়।
বর্তমানে স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ ভারতের পেঁয়াজ নিচ্ছে না। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে রপ্তানি করেছিল ৭.২৪ লাখ টন, যা তাদের মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ কিনেছে মাত্র ১২,৯০০ টন।
রপ্তানিকারকদের দাবি, এর মূল কারণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নয় বরং ভারতের ঘনঘন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বাজার হারানো।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেছেন, “আমাদের ঐতিহ্যগত ক্রেতারা শুধু মুখ ফিরিয়েই নেয়নি, তারা ভারতীয় বীজ ব্যবহার করে নিজেদেরই পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে।”
রপ্তানিকারকরা জানান, সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ নেয় না। তারা এখন কমদামে ইয়েমেন ও ইরানের পেঁয়াজ নিচ্ছে। অন্যদিকে ফিলিপাইন চীনের পেঁয়াজ না পেলে তখনই ভারতের দিকে ঝুঁকে।