হিজাব ছাড়া গান গেয়ে বিপাকে ইরানি শিল্পী, ৭৪ বেত্রাঘাতের নির্দেশ
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
হিজাব ছাড়া দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করায় কঠোর শাস্তির মুখে পড়েছেন ইরানের তরুণ সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি। দেশটির একটি আদালত তাকে ৭৪টি বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি দুই বছরের জন্য সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে তার বিদেশ ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় ২৯ বছর বয়সী পারাস্তু আহমাদি ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ শিরোনামের একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি হিজাব পরেননি। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ পারফরম্যান্সটিকে ‘অশ্লীল ও অনৈতিক’ কনটেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে। গানটি প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যে পারাস্তু আহমাদি ও তার কয়েকজন সহশিল্পীকে আটক করা হয়। পরে তারা মুক্তি পেলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান ছিল।
সম্প্রতি কোম প্রদেশের একটি আদালত মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে পারাস্তু আহমাদিসহ তার দলের আরও আট সদস্যকে ৭৪টি করে বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিল্পীর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশ সফরে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রায়টি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একজন শিল্পীর বিরুদ্ধে নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার একটি উদাহরণ।
তাদের অভিযোগ, সরকারের সমালোচনামূলক অবস্থানে থাকা শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের বিরুদ্ধে ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি, নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
ইরানি মানবাধিকার সংস্থা দাদবানের আইনজীবী মইন খাজায়েলি বলেন, এ ধরনের রায়ের সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তার দাবি, ইরানের বিদ্যমান আইনে নারীদের গান গাওয়া বা সংগীত পরিবেশনকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এসব কর্মকাণ্ডকে ‘অশ্লীল কনটেন্ট’ আখ্যা দিয়ে শাস্তি দেওয়া আইনের অপব্যবহারের শামিল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরানের অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেছেন, শুধুমাত্র গান গাওয়া এবং হিজাব ছাড়া উপস্থিত হওয়ার কারণে একজন শিল্পীকে ৭৪টি বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া অত্যন্ত কঠোর ও উদ্বেগজনক।