বঙ্গোপসাগরে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:০১ পিএম
বঙ্গোপসাগরে মাঝারি পাল্লার সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) কেএ–৪–এর পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। দেশটির পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন আইএনএস অরিঘাত থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম উপকূলের কাছে এই পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়। যদিও এ বিষয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, কেএ–৪ ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। এটি দুই থেকে আড়াই টন ওজনের পারমাণবিক বিস্ফোরক বহনে সক্ষম বলে জানা গেছে।
আরেকটি সূত্রের মতে, পরীক্ষাটি নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও মিশন উদ্দেশ্য পূরণ করেছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল পর্যায়ে নিতে একাধিক ধাপে পরীক্ষা প্রয়োজন হয়।
এর আগে ডুবো প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সাবমার্সিবল পন্টুন থেকে একাধিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর গত বছরের নভেম্বরে প্রথমবার আইএনএস অরিঘাত থেকে কেএ–৪ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়।
কেএ–৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের স্থলভিত্তিক অগ্নি–৩ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা থেকে উদ্ভূত। এটি অরিহন্ত-শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে এবং বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘ পাল্লার সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে বিবেচিত।
উল্লেখ্য, আইএনএস অরিঘাত ভারতের দ্বিতীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন, যা গত বছরের ২৯ আগস্ট নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর আগে ২০১৮ সালে কমিশন পাওয়া আইএনএস আরিহন্ত কেবল ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লার কেএ–১৫ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেএ–৪ ক্ষেপণাস্ত্রের অপারেশনাল মোতায়েন ভারতের ভবিষ্যৎ ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার কিলোমিটার পাল্লার কেএ–৫ ও কেএ–৬ ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে। এতে ভারতের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।