দিল্লি হাইকোর্টের ভার্চুয়াল শুনানিতে পর্ন ভিডিও, তদন্তে পুলিশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
ভারতের দিল্লি হাইকোর্টে ভার্চুয়াল শুনানির সময় অস্বস্তিকর এক ঘটনা ঘটেছে। শুনানি চলাকালীন আচমকাই আদালতের স্ক্রিনে পর্ন ভিডিও চালু হয়ে যায়। ঘটনায় পুরো শুনানি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন বিচারকরা। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার, ২৯ এপ্রিল। শুনানি চলছিল প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে চলা এই শুনানির সময় তিনবার একই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। প্রথমবার দুপুরের দিকে ভিডিও চালু হয়, পরে তা বন্ধ করে আবার শুনানি শুরু করা হয়।
কিছুক্ষণ পর আবারও একই ঘটনা ঘটে, ফলে আদালত দীর্ঘ সময়ের জন্য শুনানি স্থগিত করে। তৃতীয়বার শুনানি শুরু হওয়ার পরও আবার পর্দায় অশ্লীল ভিডিও দেখা যায়। এ সময় অডিওতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে হ্যাক করা হয়েছে এবং অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়ে গেছে, মিটিং বন্ধ করতে বলা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীধর সরবানোত ও শিতীজিৎ সিংয়ের একটি মামলার শুনানির সময় এই ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করেই আদালতের ভার্চুয়াল স্ক্রিনে অশ্লীল ভিডিও চলতে শুরু করে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ভিডিওটি মামলার পক্ষের একটি অ্যাকাউন্ট থেকেই চালু হয়েছিল।
ঘটনার পরই ভার্চুয়াল শুনানি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়। এরপর সাইবার অপরাধ বিভাগ তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে শিতীজিৎ সিং দাবি করেন, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। তিনি বলেন, হ্যাকিংটি সম্ভবত বিদেশ থেকে করা হয়েছে এবং কীভাবে ভিডিও চালু হলো তা তিনি জানেন না। পুলিশ আপাতত তার এই বক্তব্য বিবেচনায় নিয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, শুধু প্রধান বিচারপতির এজলাস নয়, অন্যান্য ভার্চুয়াল এজলাসেও একই ধরনের অশ্লীল ভিডিও দেখা গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এর আগে প্রায় ছয় মাস আগে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় নীতি তৈরির দাবিতে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। তবে সেই আবেদনে তেমন অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যেই আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।