পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবেই অবস্থান বজায় রাখবে উত্তর কোরিয়া: কিম জং উন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে দেশের অবস্থান কার্যকরভাবে বজায় রাখাই সবচেয়ে উপযুক্ত পথ বলে জানিয়েছেন তিনি।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিম জং উন বলেছেন, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর স্বার্থকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে এবং চলমান সংঘাতগুলো আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তিনি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন।
শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে কিম অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে তাদের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে। তার দাবি, এর মূল উদ্দেশ্য উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ।
বৈঠকে কিম জং উন জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক সক্ষমতার ধারাবাহিক সম্প্রসারণ এবং পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থান আরও দৃঢ় করা বর্তমান আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইসঙ্গে প্রচলিত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি কৌশলগত নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন কিম।
বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উনের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে উত্তর কোরিয়া এখনও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত আলোচনা থেকে দূরে রয়েছে। বরং দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে একটি স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঠেকাতে দেশটির বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে এসব পদক্ষেপের পরও পিয়ংইয়ং তাদের কর্মসূচি চালিয়ে গেছে। উত্তর কোরিয়া বহুবার ঘোষণা করেছে, কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই তারা তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে না।