দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শরীরে বিষধর সাপ ছেড়ে স্বামীকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের মীরাটে স্বামীকে হত্যা করে সেটিকে সাপের কামড়ে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করার অভিযোগে এক নারী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর তার শরীরে বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। হত্যার পেছনে ২০ লাখ রুপির জীবন বীমার অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং পরকীয়া সম্পর্ক নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত অতুল প্যানওয়ার স্ত্রী দামিনীর সঙ্গে যৌথভাবে মীরাটের হস্তিনাপুর এলাকায় একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। ‘কৃষ্ণ কিডস প্লে স্কুল’ নামে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার পাশাপাশি তারা নিজ বাড়িতেই বসবাস করতেন। সেখান থেকেই অতুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তাদের বিয়ে হয়েছিল।

মীরাটের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার অভিজিৎ কুমার জানান, তদন্তে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের গাড়িচালক তুষার ওরফে নিক্কির সঙ্গে দামিনীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনার মাধ্যমে অতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হলেও সেটি সফল হয়নি। পরে আরও ভয়ংকর পরিকল্পনা করেন তারা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে অতুলের দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন দামিনী। তিনি অচেতন হয়ে পড়ার পর বিছানায় একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়, যা তাকে দংশন করে। পরদিন সকালে অতুলকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডে দামিনী ও তার প্রেমিক তুষারের পাশাপাশি আরও দুজন সহযোগী ছিলেন। পুলিশের দাবি, পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল অতুলের ২০ লাখ রুপির জীবন বীমার অর্থ আত্মসাৎ করা এবং তাদের অবৈধ সম্পর্কের পথে থাকা বাধা দূর করা। সাপের কামড়ে মৃত্যু হলে বিষয়টি স্বাভাবিক দুর্ঘটনা হিসেবে ধরা হবে— এমন ধারণা থেকেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সাপের দংশনে মৃত্যু বলেই মনে হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন অসংগতি এবং সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুরো ষড়যন্ত্রের রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ।

ইতোমধ্যে দামিনী ও তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত তুষারও বিবাহিত এবং হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে নিজের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970