ইরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্প ও পরিবারের কফিনের ছবি, বাড়ছে উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১২ পিএম
ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি বিলবোর্ডকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা ওই বিলবোর্ডে মার্কিন পতাকায় মোড়ানো একাধিক কফিনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার পরিবারের সদস্যদের ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে।
বিলবোর্ডের পটভূমিতে জ্বলন্ত হোয়াইট হাউসের প্রতীকী দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্পের পাশাপাশি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং তাদের পরিবারের সদস্য ইভাঙ্কা ট্রাম্প, ডন জুনিয়র, এরিক ট্রাম্প, টিফানি ট্রাম্প ও ব্যারন ট্রাম্পের ছবিও রয়েছে। বিলবোর্ডে ফারসি ভাষায় লেখা হয়েছে, ‘রক্তের বদলে রক্ত’।
এ ধরনের বার্তা তেহরানে এই প্রথম নয়। এর আগে এঙ্গেলাব স্কয়ারে স্থাপিত আরেকটি বিলবোর্ডে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল। নতুন বিলবোর্ডেও একটি খোলা কালো কফিনের ভেতরে ট্রাম্পের প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তাকে অগোছালো চুল, বন্ধ চোখ-মুখ এবং বুকে রাখা হাতসহ দেখানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বার্তা প্রচারে ইরান দীর্ঘদিন ধরে বড় আকারের ম্যুরাল ও বিলবোর্ড ব্যবহার করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের পর তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যুদ্ধ, বিপ্লব ও আদর্শিক বার্তাসংবলিত বিলবোর্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের ভ্যালিয়াসর স্কয়ারে স্থাপিত এই ম্যুরালটি নকশা করেছে ওজ আর্টস অ্যান্ড মিডিয়া অর্গানাইজেশন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্প্রতি এক বার্তায় বলেন, তার বাবার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে এবং দায়ীদের শান্তিতে নিজেদের বিছানায় মরতে দেওয়া হবে না। টেলিগ্রামে প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি দাবি করেন, প্রতিশোধ নেওয়া ইরানি জাতির দাবি এবং এটি কোনো ব্যক্তির উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছেন। তার দাবি, যদি ইরান তাকে হত্যায় সফল হয়, তাহলে আগে থেকেই এমন নির্দেশ দেওয়া রয়েছে, যার ফলে ইরানের ওপর এমন মাত্রার বোমাবর্ষণ চালানো হবে, যা দেশটি আগে কখনও দেখেনি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি কঠোর বক্তব্য এবং প্রতীকী বার্তার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: এনডিটিভি