৫০ বার চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থ; ‘সরি বাবা’ লিখে স্বর্ণপদকজয়ী যুবকের আত্মহত্যা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে সরকারি চাকরি না পাওয়ার হতাশায় আত্মহত্যা করেছেন স্বর্ণপদকজয়ী এক তরুণ প্রকৌশলী। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একটি হাতে লেখা চিরকুটে বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি লিখেছেন, প্রায় ৫০টি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিয়েও সফল হতে পারেননি।
নিহত ২৩ বছর বয়সী আনন্দ ২০২৪ সালে বেসরকারি প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পিএসআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বি-টেক সম্পন্ন করেন। একই বছর বিভাগে প্রথম এবং উত্তর প্রদেশে তৃতীয় স্থান অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩ আগস্ট কলেজের এক অনুষ্ঠানে তাকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।
শিক্ষাজীবনে অসাধারণ সাফল্যের পর আনন্দ সরকারি চাকরির প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা বড় ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিহারে গেলে কানপুরের গোবিন্দ নগরের গুজাইনি এলাকায় নিজেদের তিনতলা বাড়িতে একাই ছিলেন আনন্দ। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে গৃহকর্মী প্রতিবেশী ও পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ তার কক্ষ থেকে পাঁচ লাইনের একটি হাতে লেখা চিরকুট জব্দ করেছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘সরি, বাবা। সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য প্রায় ৫০ বার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। আমাকে ক্ষমা করে দিও।’
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পরে শনিবার সন্ধ্যায় ভৈরব ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতের বাবা রাজকুমার জানান, স্নাতক শেষ করার পর আনন্দ এক বছর পাওয়ার গ্রিডে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেছিলেন। এরপর তিনি রেলওয়ে, স্টাফ সিলেকশন কমিশন, ব্যাংক এবং শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন। কিন্তু একের পর এক পরীক্ষায় অংশ নিয়েও চাকরি না পাওয়ায় গত কয়েক মাস ধরে তিনি তীব্র মানসিক চাপে ছিলেন।
গোবিন্দ নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার দুবে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সরকারি চাকরি না পাওয়ার মানসিক চাপের বিষয়টি সামনে এলেও ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।