ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহ: স্পেনে জরুরি অবস্থা জারি, ইইউর সহায়তা চাইল ফ্রান্স
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মানুষের প্রাণ রক্ষায় বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) প্রথমবারের মতো দাবানলকে কেন্দ্র করে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্পেন। একই সময়ে আটলান্টিক উপকূলে ছড়িয়ে পড়া অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি সহায়তা চেয়েছে ফ্রান্স।
পর্যটকদের জনপ্রিয় গন্তব্য ফ্রান্সের ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপে লোকালয়ের খুব কাছাকাছি আগুন পৌঁছে যাওয়ায় পুরো এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির প্রশাসন। ইতোমধ্যে প্রায় ৬৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষকে নৌপথে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে পুলিশের নির্দেশে এলাকা ছেড়ে যাওয়া ২৬ বছর বয়সী ইয়োয়ান ইউরিয়েন জানান, তাদের বাড়ি থেকেই আগুনের ভয়াবহতা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। তিনি বলেন, ধোঁয়ার মেঘ ধীরে ধীরে আরও ঘন ও কালো হয়ে পুরো আকাশ ঢেকে ফেলছিল।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেজ স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, ক্যাপ ফেরের উত্তর প্রান্তের সাওমুস এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন উপদ্বীপে প্রবেশ ও বের হওয়ার একমাত্র প্রধান সড়কটি প্রায় অচল করে দিয়েছে। তার ভাষ্য, চলতি বছরে ফ্রান্সে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল।
তিনি আরও জানান, আগুনে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বন ও ভূমি পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৮০টি বসতবাড়ি, যার মধ্যে ৫০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
এদিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাসকা জানিয়েছেন, রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা থেকে ১০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী আভিলা প্রদেশের তিনটি পৃথক দাবানল যেন একত্রিত হয়ে আরও ভয়াবহ রূপ না নেয়, সে জন্য দমকলকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।
সূত্র: রয়টার্স।