হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ, আদালতে স্বীকারোক্তিতে যা জানালো ঘাতক সোহেল
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
রাজধানীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে তাকে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে বক্তব্য দেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানানোয় আদালতে তা রেকর্ড করার আবেদন করা হয়। একইসঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনও করা হয়েছে।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোহেল রানার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। তবে রিমান্ড শুনানির আগেই তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন।
বুধবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে নেওয়া হয়। পরে তিনি আদালতের কাছে ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিহত রামিসা রাজধানীর একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অভিযুক্তের স্ত্রী কৌশলে তাকে নিজেদের বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিদ্যালয়ে না পৌঁছানোয় পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্তদের বাসার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান স্বজনরা। পরে দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় একটি কক্ষ থেকে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাশের আরেকটি কক্ষে বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।