ভোট ডাকাতি যেন আর না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
ভবিষ্যতে দেশে আর কোনোভাবেই যেন ভোট ডাকাতি না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। অতীতের নির্বাচনগুলোতে যেভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে নির্লজ্জভাবে বিকৃত করা হয়েছে, তা জাতির সামনে তুলে ধরা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ শেষে কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ভোট ডাকাতির কথা আগে শুনলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে নিজেদের মতো করে ভেঙে-চুরে কাগজে রায় লিখে দেওয়ার যে নির্লজ্জতা দেখানো হয়েছে, তার পূর্ণ রেকর্ড জাতির সামনে আসা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের অর্থ ব্যয় করে নির্বাচন আয়োজন করে কার্যত পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ অসহায়ের মতো সব দেখেছে, কিন্তু কিছুই করতে পারেনি। জনগণ যেন অন্তত কিছুটা স্বস্তি পায়, সে জন্য কারা কীভাবে এই নির্বাচন ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল, তা প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ সময় তদন্ত কমিশনের প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইনসহ কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ একাধিক উপদেষ্টা আলোচনায় অংশ নেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ১৪৭টি আসনেও তথাকথিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও পূর্বপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতেই এই নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হওয়ায় ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ দেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তবে তদন্ত কমিশনের হিসাব মতে, ওই নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ফলাফল নিশ্চিত করা হয়। কোথাও কোথাও ভোটের হার ১০০ শতাংশেরও বেশি দেখানো হয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় তথাকথিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখাতে ‘ডামি’ প্রার্থী দেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনটি নির্বাচনই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং তা বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। এতে নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই কার্যত নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তিতে পরিণত হয়।
প্রতিবেদনের শেষে ভবিষ্যতে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে একাধিক সুপারিশও তুলে ধরেছে তদন্ত কমিশন।