নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে গাফিলতি দেখা গেলেই কঠোর ব্যবস্থা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনীহা, অসহযোগিতা বা শৈথিল্য দেখা গেলে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তাদের আওতাধীন সব অধিদপ্তর, দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনাটি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের সই করা পরিপত্রে জানানো হয়, নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার ও ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষক এবং সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, নিয়োগপত্র পাওয়ার পর বা নির্বাচনের কাজে যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য হবেন এবং তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। দায়িত্ব পালনে অনীহা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য বা ভুল তথ্য প্রদানকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ১৯৯১ সালের আইনের ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী দোষী প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) মো. খালিদ হোসেন জানান, গত ৯ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া নির্দেশনা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের সব অঞ্চল, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মাউশি, নায়েম, ব্যানবেইস, এনটিআরসিএ ও এনসিটিবিসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটকে প্রশ্নাতীত করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সততা, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই জাতীয় দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।