সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে: আসিফ নজরুল
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও জনগণের মতামত এখনো নেওয়া হয়নি। সেই মতামত জানতেই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—দুটি ভোটের সুযোগ থাকবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, যারা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন, আর যারা শেখ হাসিনার শাসনামলের মতো বাংলাদেশ পরিচালিত হোক চান, তারা ‘না’ ভোট দেবেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা ১৫ বছর জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, কখনো রাতের ভোট, কখনো প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচন, আবার কখনো ডামি ও ভুয়া ভোটের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় জনগণকে ভোটাধিকার থেকে দূরে রেখে নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়েছে এবং জনগণের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আইন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ফলে দেশে আবার ভোটাধিকার ফিরে এসেছে। এই অর্জন কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার কাজ করছে। নির্বাচনে সবাই স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। কেউ ভোট দিতে বাধা দিলে তাকে শেখ হাসিনার পথ অনুসরণকারী হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে দুটি ঐতিহাসিক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে আসিফ নজরুল বলেন, আয়নাঘর, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গায়েবি মামলার মতো অনিয়মের অবসান ঘটাতেই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
সভায় বগুড়া জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।