এবার ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে: প্রেস সচিব
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবার ভোট গণনায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, একই দিনে দুটি ভোটগ্রহণ হওয়ায় গণনার প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনের দিন তথ্যের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে উন্নতমানের ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হবে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি অন ক্যামেরা।
তিনি আরও বলেন, এসব ক্যামেরার ফুটেজ একটি বিশেষ সুরক্ষা অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া বা কুইক রেসপন্স নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ভোটের দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রধান উপদেষ্টা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান শফিকুল আলম। একই সঙ্গে সম্প্রতি লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবে সেনাবাহিনীর এক লাখ সদস্য, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিমান বাহিনীর সাড়ে তিন হাজার সদস্যসহ অন্যান্য বাহিনী। এছাড়া নজরদারিতে ব্যবহৃত হবে ৫০০টি ড্রোন।
পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন নিয়ে কিছু উদ্বেগের কথা থাকলেও দেশের সব ৩০০ আসনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
শফিকুল আলম জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থী বৈধ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা প্রশাসকরা জেলা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া ‘নির্বাচনী সুরক্ষা’ নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও জানান প্রেস সচিব। তাঁর মতে, এই অ্যাপ মাঠপর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।