ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিবৃতি, দিল্লিকে নতুন বার্তা দিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০০ এএম
ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবৃতি দেওয়া বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশা করে না—এমন স্পষ্ট বার্তা আবারও ভারত সরকারকে জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
সম্প্রতি বিবিসি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতে বসে এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক কোনো দৃষ্টান্ত তৈরি করবে না; বরং সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ–ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সাম্প্রতিক টানাপোড়েন, জাতীয় নির্বাচন এবং দিল্লিতে শেখ হাসিনার অবস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তৌহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও অস্বস্তি থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঘটনায় বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। ওই সময় সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ, সীমান্তে উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক তলবের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ নয়াদিল্লি বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই প্রেক্ষাপটে তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার কাম্য মনে করে না। এতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ সংখ্যালঘু বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ কখনো প্রকাশ্যে মন্তব্য করে না; বাংলাদেশ প্রসঙ্গেও ভারতের একই ধরনের সংযম দেখানো উচিত।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, পারস্পরিক সংযম, কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও বাস্তবতাভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমেই বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বিদ্যমান ভুল বোঝাবুঝি দূর করা সম্ভব।