যমুনা এলাকায় গুলিতে মৃত্যুর খবর ভুয়া, ফ্যাক্টচেকে দাবি নাকচ প্রেস উইংয়ের
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
যমুনার সামনে পুলিশের গুলিতে আন্দোলনরত তিনজন নিহত এবং অন্তত ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক- এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছে যে, যমুনার সামনে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রেস উইং ফ্যাক্টস জানায়, কি–ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যমুনার সামনে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের খবর প্রকাশিত হলেও কোথাও নিহত হওয়ার তথ্য নেই। একইভাবে, অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রেও পাঁচজন বা তিনজন নিহত হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে—নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে শুক্রবার সরকারি কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের যমুনা এলাকা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তারা অবস্থান চালিয়ে যান।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জসহ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে আন্দোলনকারীরা পিছু হটে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের দিকে অবস্থান নেন। পরে সেখানে অবস্থান ধরে রাখলে সোয়া ১টার দিকে আবারও পুলিশ বলপ্রয়োগ করে।
প্রেস উইং ফ্যাক্টস জানায়, ওই সময় কয়েক দফা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হলে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শাহবাগের দিকে এবং অন্য অংশ বাংলামোটরের দিকে সরে যায়। তবে পুরো ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশের গুলিতে যমুনার সামনে তিনজন নিহত হওয়ার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।