দেশে ৩ হাজার স্পট থেকে দৈনিক শতকোটি টাকা চাঁদা আদায়
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার স্পট থেকে প্রতিদিন প্রায় শতকোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, সড়ক পরিবহণ খাতে এ অর্থের বড় অংশই ভয়ভীতি ও জোরপূর্বক আদায় করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশ এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এ চক্রের সঙ্গে জড়িত। কোথাও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, কোথাও পার্কিং, আবার কোথাও পৌর টোলের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে চালক ও মালিকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহণ, সেতু, রেল ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চাঁদা ও চাঁদাবাজি এক বিষয় নয়। তাঁর ভাষ্য, স্বেচ্ছায় দেওয়া অর্থকে চাঁদা বলা যায়, কিন্তু জোরপূর্বক আদায় করা হলে তা চাঁদাবাজি এবং এটি ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। প্রয়োজনে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও উল্লেখ করেন।
পরিবহণ খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাঁদাবাজির প্রভাব সরাসরি ভাড়া বৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হয়। ফলে সবজি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। বহু বছর ধরেই প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট এ খাত নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তন হলেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি।
হিসাব অনুযায়ী, সিটি বাস, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা—সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়। সবচেয়ে বেশি অর্থ আদায় করা হয় পণ্যবাহী ট্রাক থেকে।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়কে চাঁদা ও চাঁদাবাজি দুটোই রয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের নামে অর্থ আদায় করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা জোরপূর্বক নেওয়া হয়। তিনি মনে করেন, ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ ও স্বয়ংক্রিয় জরিমানা পদ্ধতি চালু করা গেলে চাঁদাবাজি কমানো সম্ভব।
অন্যদিকে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা ও কল্যাণ তহবিলের জন্য সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু অর্থ নেওয়া হয়। তবে এর বাইরে সড়কে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি হচ্ছে বলেও স্বীকার করেছেন কেউ কেউ।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর নজরদারি রয়েছে। কোথাও অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া এ চক্র ভাঙা কঠিন হবে।