শতকোটি টাকা ব্যয়ে বদল, আবারও পুরোনো পোশাকে ফিরছে পুলিশ?
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগের পর অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের অংশ হিসেবে পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে নতুন পোশাক নিয়ে শুরু থেকেই বাহিনীর ভেতরে-বাইরে মতবিরোধ ছিল প্রবল। রঙ ও মান নিয়ে অসন্তোষের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয় সিদ্ধান্ত। এতে অন্তত শতকোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটি দাবি করেছে, কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও সাবেক দায়িত্বশীলদের হস্তক্ষেপে পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের কেনাকাটায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে এবং তাদের পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে পোশাক প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পরও সেই তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বাহিনীর ভেতরে আগের পোশাকে ফিরে যাওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগের খাকি পোশাকই পুলিশের ঐতিহ্য বহন করে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরে আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান। তার ভাষ্য, সরকারের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে আগের পোশাকে ফেরার নির্দেশনা এসেছে। বর্তমানে ব্যবহৃত লৌহ রঙের পোশাককে অনেকেই বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের পোশাকের সঙ্গে তুলনা করছেন। এতে বাহিনীর সদস্যদের মনোবল প্রত্যাশিতভাবে বাড়েনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত বছরের ১৪ নভেম্বর থেকে মহানগর এলাকায় নতুন পোশাক পরা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে জেলা পুলিশও তা অনুসরণ করে। তবে সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও বিশেষ সুরক্ষা ব্যাটালিয়নের পোশাক অপরিবর্তিত রাখা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পোশাক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ কিছু সংস্থার পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুর মোহাম্মদ বলেন, শুধু পোশাকের রঙ পরিবর্তন করলেই মনমানসিকতার পরিবর্তন হয় না। কার্যকর সংস্কার ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ ও স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ জরুরি। তার মতে, আগের পোশাকেই বাহিনীর ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মত, অতীতেও একাধিকবার পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের পোশাক পরিবর্তন হয়েছে। ২০০৪, ২০১৬ ও ২০২১ সালে রঙে পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু পোশাক বদলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি। তাই জনবান্ধব ও পেশাদার বাহিনী গড়ে তুলতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বেশি জরুরি।
বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী মাসের মধ্যেই পুরোনো পোশাকে ফেরার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে। তবে ইতোমধ্যে ব্যয় হওয়া বিপুল অর্থ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।