সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ নয়, বরং এটি সংশোধন, স্থগিত বা রহিত করা যায়—এমন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
রোববার জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংবিধান সংশোধনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে এর মূল বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই বিষয়গুলো সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না।
তিনি অভিযোগ করেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নানা ধরনের আইনি প্রতারণা যুক্ত করা হয়েছে। এর কিছু অংশ ইতোমধ্যে আদালত অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো সংসদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাতিল বা সংশোধন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধানের বিভিন্ন তফসিলে ভুল ইতিহাস যুক্ত করা হয়েছে, যা সংশোধন প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরদিন কালুরঘাট থেকে তা পুনরায় ঘোষণা করেন। এই ইতিহাস সংবিধানে পুনঃস্থাপনের কথা জানান তিনি।
সংবিধানের মূলনীতিতে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহালের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই নীতি আগে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরে তা বাদ দেওয়া হয়, যা আবার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং সেই ক্ষমতা সংসদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। একইসঙ্গে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পাবে।
বিরোধী দলসহ সব সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে নিয়ে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে বসে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের পথ নির্ধারণ করা উচিত। বাইরের কোনো চাপ বা পরামর্শ নয়, বরং দেশের সংসদই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।