রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু, একবার লোডেই চলবে দেড় বছর
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৭ এএম
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করল।
এই ঐতিহাসিক অগ্রগতির মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোড করা হলে তা দিয়ে টানা প্রায় দেড় বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এরপর নির্ধারিত সময় পর এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল, গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় এটি বড় সুবিধা, কারণ এখানে ঘন ঘন জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজন পড়ে না।
প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়ার জন্য মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি বান্ডেলে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম রড থাকে। এর আগে বাংলাদেশ ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করেছিল, যার মধ্যে পাঁচটি সংরক্ষণে রাখা হয়েছে।
জ্বালানি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চুল্লিতে পারমাণবিক বিভাজন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপ থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
প্রাথমিকভাবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও সাম্প্রতিক হিসাবে তা বেড়ে প্রায় ১২ টাকায় দাঁড়াতে পারে বলে জানা গেছে।
রূপপুর প্রকল্পের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। সব পরীক্ষামূলক কাজ শেষ হলে কয়েক মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্প চালু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।