পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জুলাই শহীদ দিবস পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস, ২০২৬’ পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়; বরং স্বৈরাচারমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম, সাহস ও আত্মত্যাগের ফল। তারা জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইকমিশনের সম্মেলনকক্ষে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ইসলামাবাদে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, হাইকমিশনের কর্মকর্তা এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন পাথফাইন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকরাম সেহগাল, ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো রাষ্ট্রদূত আসিফ আলী খান দুররানি, ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের অধ্যক্ষ মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ মাহমুদ, ম্যারিয়ট হোটেলের পরিচালক আমনা সালমান কাদির এবং জং গ্রুপের বিশেষ প্রতিবেদনের সম্পাদক এম সালেহ জাফির।

বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক অগ্রগতির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও আরও উন্নত হয়েছে।

আলোচনায় আরও বলা হয়, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তির উৎস যে জনগণ—সে বার্তাই স্মরণ করিয়ে দেয়। জনগণের অধিকার, মর্যাদা, স্বার্থ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। একই সঙ্গে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার জুলাই আন্দোলনে আহত বীর যোদ্ধা, শহীদ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি আহতদের কষ্টময় জীবনের কথা তুলে ধরে তাদের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগ ও অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

হাইকমিশনার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে কলেজ শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জন নিহত হন। পরবর্তী সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার, দমন-পীড়ন এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970