মেঝেতে স্বামীর রক্তাক্ত মরদেহ-ছুরিকাহত ছেলে, বিছানায় মোবাইলে ব্যস্ত মা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এক চিকিৎসকের রক্তাক্ত মরদেহ এবং তার আট বছর বয়সী ছেলেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সময়ে ঘরের বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায় শিশুটির মাকে, যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিহত চিকিৎসকের নাম ডা. কিরণ হোন্নান্নাভার (৪৫)। তিনি অ্যানেসথেসিওলজিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী ডা. প্রিয়াঙ্কা একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ।
পুলিশ জানায়, রাজধানী বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় ৪৩৫ কিলোমিটার দূরে কর্ণাটক ইউনিভার্সিটি রোডের ‘রাঙ্কা স্টেলো অ্যাপার্টমেন্টস কমপ্লেক্স’-এর একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। হুব্বল্লি-ধারওয়াড়ের পুলিশ কমিশনার এন শশিকুমারের ভাষ্য, প্রাথমিক তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে বাইরের কারও প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওই সময় ফ্ল্যাটে কেবল স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তানই অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে ডা. কিরণের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এ সময় তার স্ত্রী ডা. প্রিয়াঙ্কা ফোনে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। কখনো জানান, তার স্বামী বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কখনো বলেন তিনি বাইরে রয়েছেন। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডা. কিরণকে গলায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্নসহ রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। অন্য একটি কক্ষে তাদের আট বছর বয়সী সন্তানকে গুরুতর ছুরিকাহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, আহত শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত মরদেহের পাশেই আহত শিশুটি পড়ে আছে। একই ঘরের বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায় ডা. প্রিয়াঙ্কাকে। তবে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি পুলিশ।
ঘটনার পর ডা. প্রিয়াঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং অসংলগ্ন আচরণ করছেন।
এ ঘটনায় সাবার্বান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সময় ও ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।