সামরিক-বেসামরিক সুসম্পর্ক ছাড়া শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়: ডিসি সম্মেলনে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুসম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্রে সিভিল–মিলিটারি সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টি হয়, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা কখনো স্থায়ী হতে পারে না।”
অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং প্রতিরক্ষা সচিবসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ডিসিদের উদ্দেশে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতিরক্ষা নীতি, জাতীয় নিরাপত্তার বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ এবং পূর্ববর্তী শাসনামলের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলো মোকাবেলার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
ড. শামছুল ইসলাম বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশের জনগণেরই অংশ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, জাতির যেকোনো সংকটকাল—দুর্যোগ হোক বা জাতীয় বিপর্যয়—সশস্ত্র বাহিনী সবসময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কিছু অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বিশ্বে জাতীয় নিরাপত্তা এখন কেবল ভূখণ্ড রক্ষা বা প্রচলিত যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাইবার আক্রমণ, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, তথ্যযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক চাপ—সবই এখন নিরাপত্তা হুমকির অংশ।
তিনি জানান, সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর “টোটাল পিপল ওয়ার” ধারণাকে পুনরুজ্জীবিত করছে। এর অংশ হিসেবে বিএনসিসি ও আনসার–ভিডিপিকে সমন্বিত করে একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা কাঠামো গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান নির্দেশনায় দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ সক্ষমতা (Credible Deterrence) তৈরির কাজ চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডিসিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদেশি কিছু পরিভাষা—যেমন টেররিজম, এক্সট্রিমিজম বা র্যাডিকালিজম—ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামো এসব শব্দের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সহনশীল ও সম্প্রীতির দেশ, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে। তাই রাষ্ট্রীয় বক্তব্য ও প্রশাসনিক ভাষায় সংবেদনশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের “ইউনিফর্ম পরিহিত নাগরিক” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কঠোর শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশের সেবা করে থাকেন। তাই বেসামরিক প্রশাসনের উচিত তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা প্রদর্শন করা।
ড. শামছুল ইসলাম বলেন, অতীতের “ফ্যাসিবাদী শাসনামল” এবং পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের কারণে দেশের বিভিন্ন খাতে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত স্বার্থ, দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তিনি রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারবেন না।”
সবশেষে তিনি সবাইকে “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতি ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে বিভাজনমুক্ত, স্থিতিশীল ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান।