জাতীয় নির্বাচনের দিন বা তার আগেই গণভোট আয়োজনের সুপারিশ ঐকমত্য কমিশনের
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:২৩ পিএম
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অথবা তার আগেই গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। একই সঙ্গে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।
আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই সুপারিশের কথা জানান কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এ সময় কমিশনের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে “জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের উপায়” সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলো লিখিতভাবে হস্তান্তর করে ঐকমত্য কমিশন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “গণভোটের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ঐক্যমত রয়েছে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গণভোট একটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত। তাই আমরা সরকারকে পরামর্শ দিয়েছি—সংসদ নির্বাচনের দিন বা তার আগে যেকোনো দিন গণভোট আয়োজন করা হোক।”
তিনি আরও বলেন, “গণভোট আয়োজনের তারিখ ও প্রক্রিয়া নির্ধারণে সরকারের হাতে যথেষ্ট তথ্য ও লজিস্টিক সুবিধা আছে। আমরা লিখিতভাবে সরকারকে অনুরোধ করেছি, যেন তারা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে।”
কমিশনের সহসভাপতি জানান, জুলাই সনদের বাস্তবায়নে ঐকমত্য কমিশন তিন ভাগে সুপারিশ দিয়েছে—
প্রথম ধাপ: যেসব বিষয় সাংবিধানিক নয়, সরকার চাইলে অধ্যাদেশ জারি করে তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপ: অনেক সুপারিশ প্রশাসনিক নির্দেশ বা অফিস আদেশের মাধ্যমেও কার্যকর করা সম্ভব—এসব দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তৃতীয় ধাপ: সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি বিষয়ের বাস্তবায়নে জনগণের সম্মতি নিতে গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করা হয়েছে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, সরকার যেন অবিলম্বে একটি আদেশ জারি করে জুলাই সনদের সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজন করে। সেই গণভোটে একটি স্পষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করা উচিত—জনগণ কি এই ৪৮টি সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে আছেন?”
ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদই একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদ হিসেবে কার্যকর থাকবে। সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিন কার্যকর থাকবে এবং এই সময়ে তারা জুলাই সনদে উল্লিখিত বিষয়গুলো সংবিধানে সংযোজন, বিয়োজন বা সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করবে।”
ভোটের সংখ্যানুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ (Upper House) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দিয়েছে ঐকমত্য কমিশন। কমিশনের ভাষায়, “গণভোটে জনগণের সম্মতি পেলে জাতীয় সংসদ গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে উচ্চকক্ষ বাস্তবায়ন করা হবে।”