হাদি হত্যা মামলায় জাবের কীভাবে বাদী হলেন, প্রশ্ন তুললেন বোন মাসুমা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের কীভাবে মামলার বাদী হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের বোন মাসুমা হাদি।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন এবং সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে যাওয়ার পর থেকে এক মুহূর্তের জন্যও হাসপাতাল ত্যাগ করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
মাসুমা হাদি প্রশ্ন তুলে বলেন, তিনি হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের লোকজন কেন আব্দুল্লাহ আল জাবেরের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিলেন এবং কীভাবে তিনি মামলার বাদী হলেন, সেই বিষয়ে তিনি বহুবার জানতে চেয়েছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাকে জানানো হয় যে, ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর হাদির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছিল। সে সময় ওমর নাকি জানিয়েছিলেন, পরিবার চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অন্য কোনো বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার অবস্থায় ছিল না। তবে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এমন গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে নেওয়া নিয়ে কোনো জটিলতা নেই বলেও উল্লেখ করা হয়। এমনকি বাদীপক্ষ মামলা না করলেও পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে গণসংযোগকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে গত মঙ্গলবার ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর হাদি ফেসবুকে দেওয়া দুটি পোস্টে দাবি করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ব্যক্তি জড়িত। তবে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে পরদিন তিনি আরেক পোস্টে লেখেন, তদন্ত চলমান থাকায় তিনি আগের পোস্টগুলো প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
হত্যাকাণ্ডের পর অন্তর্বর্তী সরকার ওমর হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব পদে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। এ নিয়োগ গ্রহণ এবং পরিবারের কেউ মামলার বাদী না হওয়া নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই দাবি করেন, নিরাপত্তাজনিত কারণেই পরিবারের সদস্যরা তখন বাদী হতে চাননি।
তবে এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে মাসুমা হাদি বলেন, মামলার বাদী হওয়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ‘নোংরামি’ চলছে। তিনি জানান, পরিবারের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু ভাইয়ের কথা ভেবে তিনি এতদিন সে বিষয়ে মুখ খোলেননি।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ঘটনার সময় ওমর হাদির মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। কারণ গুলির সময় দুই ভাই একই রিকশায় ছিলেন। তার দাবি, আরেকটি গুলি বের হলে ওমর হাদিও প্রাণ হারাতে পারতেন। ওসমান হাদির রক্তে ওমরের পোশাক, হাতঘড়ি ও শরীর রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাসুমা হাদি আরও প্রশ্ন রাখেন, পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কারণে কেউ বাদী হতে চাননি—এমন তথ্য কে বা কারা প্রচার করেছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তার দাবি, পরিবারের সদস্য হিসেবে তাকে না জানিয়ে বা তার মতামত না নিয়েই কীভাবে আব্দুল্লাহ আল জাবের মামলার বাদী হলেন, সেই ব্যাখ্যা দিতে হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শুক্রবার বিকেলে আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ফোনে অন্য একজন ব্যক্তি কথা বলেন এবং প্রশ্ন জানার পর পরে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও জাবেরের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।