গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে: প্রধানমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণের কারণে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার যেমন ক্ষুণ্ন হয়েছে, তেমনি শিক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। আমরা অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদান যথাযথভাবে সম্মান জানাতে হবে। একই সঙ্গে একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে এর অধিভুক্ত দুই হাজারের বেশি কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অতীতে এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী এখান থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শহর-গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তিনি বলেন, বিশ্ব বর্তমানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে অনেক প্রচলিত পেশা ঝুঁকির মুখে পড়লেও নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তাই শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ফরেনসিক বিজ্ঞান, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল যোগাযোগ, নেতৃত্ব, উপস্থাপনা দক্ষতা ও আর্থিক সচেতনতার মতো বিষয়গুলো আধুনিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। পাশাপাশি জেনেটিক প্রকৌশল, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোপ্রযুক্তি, থ্রিডি প্রিন্টিংসহ উদীয়মান প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তার ভাষ্য, বর্তমান সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বাস্তবভিত্তিক, বহুমুখী, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা কারিকুলামের নিয়মিত সংস্কার এবং শ্রমবাজারের উপযোগী পাঠ্যক্রম তৈরিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।
শিক্ষাকে শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যম নয়, বরং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম নিয়ামক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, মানবিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্ব প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করেও ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে কর্মসংস্থান পেতে ব্যর্থ হন। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও বাস্তবমুখী করতে শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, ইন্টার্নশিপ এবং শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা শেষ করে দীর্ঘদিন বেকার থাকার প্রয়োজন হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে সরকার উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণার জন্য প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, এর মাধ্যমে তরুণরা চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন।