খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল: প্রধান উপদেষ্টা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৪ এএম
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি একজন অভিভাবকতুল্য নেত্রীকে হারিয়েছে। তার মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত বলে উল্লেখ করেন।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও জনগণের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসেই তাকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আপোষহীন নেতৃত্ব গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে জাতিকে বারবার মুক্তির পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতির কল্যাণে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, গণমুখী নেতৃত্ব ও দৃঢ় মনোবল দেশের মানুষকে সবসময় দিকনির্দেশনা দিয়েছে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন অভিজ্ঞ, পরীক্ষিত ও প্রভাবশালী রাজনীতিককে হারাল।
শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে একজন গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে নামেন বেগম খালেদা জিয়া। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ নয় বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তার নেওয়া বহু সিদ্ধান্ত দেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেয়। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করা নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত সফল। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে পাঁচটি ভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং ২০০৮ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই জয় লাভ করেন।
ড. ইউনূস বলেন, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করেন। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রাম ও প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন। তার আপোষহীন অবস্থান দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ে জাতিকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
শোকবার্তায় আরও বলা হয়, রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই তিনি চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। মিথ্যা ও সাজানো মামলায় তাকে দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয় এবং দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়।
শেষে প্রধান উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এই অপূরণীয় ক্ষতির সময়ে তিনি দেশবাসীকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং সবার প্রতি তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেন।