সরকার গঠন করলে প্রথমদিন ফজর পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব: জামায়াত আমির
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মানবিক ও উন্নত দেশ গড়ার জন্য দল-মত-নির্বিশেষে সকল নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করলে প্রথম দিনেই ফজরের নামাজ পড়ে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করা হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সম্প্রচার করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষ—মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—ভয়ের সংস্কৃতিতে বসবাস করবে না। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আঘাত করার চেষ্টা করলে আমরা তা প্রতিরোধ করব।”
তিনি বলেন, “আমরা এমন দেশ গড়ব যেখানে কোনো মা বা বোন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগবে না। আমাদের নির্বাচিত করুন, আমরা আপনাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজ করব।”
জামায়াত আমির জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণ করে বলেন, “জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও ন্যায়সঙ্গত বাংলাদেশ। আমরা চাই নতুন প্রজন্মের হাতেই দেশ গড়ে উঠুক—ভালোভাবে পরিচালিত, সকলের জন্য নিরাপদ ও সমৃদ্ধ।”
তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “তরুণরা পরিবর্তনকে আলিঙ্গন করে, সত্যকে বোঝে এবং প্রযুক্তিতে দক্ষ। তারা তৈরি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য। আমরা তাদের হাত ধরতে চাই, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজ করতে চাই।”
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিগত শাসকরা রাষ্ট্রীয় পদ, সম্পদ ও নীতি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনকারীরা কখনো দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হননি।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ। জনগণকে ঠিক করতে হবে কোন বাংলাদেশ তারা চায়—তরুণ, নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষের জন্য ন্যায়পরায়ণ, দক্ষ ও স্বচ্ছ রাষ্ট্র নাকি পুরনো লুটেরা ও দুর্নীতিপূর্ণ শাসনব্যবস্থা।
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে ‘হ্যাঁ’ এবং দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে ‘না’ বলা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা বিদেশ থেকেও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ভবিষ্যতে দেশ গঠনে আপনাদের অংশ অপরিহার্য।”
তিনি নির্বাচন সুষ্ঠু ও ন্যায়পরায়ণভাবে পরিচালনার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের পরিশ্রম ও ত্যাগের স্বীকৃতি জানান। জামায়াত আমির বলেন, “রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোনো উপভোগের বিষয় নয়। আমরা সর্বদা দায়বদ্ধ থাকব এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকব, ইনশাআল্লাহ।”