আগামী ১০০ বছরেও আর গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় জনগণের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। এ কারণে আগামী ১০০ বছরেও দেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (১১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রুমিন ফারহানা। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।
বক্তব্যে তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানুষ শেষবারের মতো স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই আন্দোলন কিছু মানুষের ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে বলে জনগণের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি উগ্রবাদের উত্থান এবং অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার প্রবণতাও মানুষের আস্থায় আঘাত করেছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আগে মানুষ বহুবার চিন্তা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে হিজাব পরা ও হিজাববিহীন—উভয় শ্রেণির নারী সমানভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে সেই অংশগ্রহণের অনুকূল পরিবেশ কেন বজায় থাকল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভাঙচুরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই এসব স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
দেশে উগ্রবাদের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে—এটি আগে জানা থাকলে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কতটা হতো, সেটি বড় প্রশ্ন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের পরও সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সুফল পায়নি। তার ভাষ্য, দেশের মানুষ বারবার ত্যাগ স্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত বারবারই প্রতারিত হয়েছে।