বাবার ‘রক্তের’ প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, এটি শুধু তার পরিবারের সিদ্ধান্ত নয়, বরং পুরো ইরানি জাতির প্রত্যাশা ও দাবি।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন মোজতবা খামেনি। শনিবার (১১ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার এই বার্তা সম্প্রচার করা হয়।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সাম্প্রতিক দুই দফা যুদ্ধে নিহত সব শহীদের ‘নিষ্পাপ রক্তের’ প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার থেকে ইরান পিছিয়ে যাবে না। তার ভাষায়, এই প্রতিশোধ ‘অবশ্যই’ এবং ‘অনিবার্যভাবে’ বাস্তবায়িত হবে।
মোজতবা খামেনি আরও বলেন, এই প্রতিশোধের লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মকর্তার উপস্থিতি কিংবা অনুপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি দাবি করেন, তারা জীবিত থাকুন বা না থাকুন, এই লক্ষ্য একদিন পূরণ হবেই।
বিবৃতিতে তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে ইরান ও ইরাকজুড়ে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে তেহরান, কোম, নজফ, কারবালা ও মাশহাদে লাখো মানুষের উপস্থিতিকে তিনি ‘ঐতিহাসিক’ এবং ‘শত্রু-বিধ্বংসী’ সমাবেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় আহত হলেও মোজতবা খামেনি পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি শুরু থেকেই জনসমক্ষে খুব কম আসছেন। তিনি মূলত লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অবস্থান জানিয়ে আসছেন। এমনকি মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে অনুষ্ঠিত তার বাবার দাফন ও সপ্তাহব্যাপী শেষকৃত্য অনুষ্ঠানেও তিনি সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা