শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল বিএনপি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০১:০৮ এএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। সোমবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র–গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে।”
বিএনপির দাবি, এই সময় গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মামলা–নিপীড়নসহ নানা ধরনের নির্যাতনে শত সহস্র বিরোধী নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্র–জনতা–শ্রমিক এবং নারী–শিশুসহ অসংখ্য মানুষের আত্মদান ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
বিএনপি বলছে, বাংলাদেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক জনমতের প্রত্যাশা ছিল—জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হোক। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনা ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে যে সাজা ঘোষণা হয়েছে, তা “আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দেওয়া হয়েছে।”
মির্জা ফখরুল বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলেন, “এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল।”
তিনি জানান, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন তদন্তে সহযোগিতা করায় তাকে কম সাজা—পাঁচ বছরের কারাদণ্ড—দেওয়া হয়েছে।
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অন্যান্য মামলায় অভিযুক্তদের জন্যও দলটি সুবিচার দাবি করছে।
স্থায়ী কমিটি মনে করে, “দীর্ঘ ১৬ বছরের গুম–খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার পরিবারগুলো এবং ২০২৪ সালের ছাত্র–গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মা এই রায়ের মাধ্যমে আংশিক হলেও শান্তি পাবে।”