খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে চার দফা কর্মসূচি ও ছয় দফা ঘোষণা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১৭ পিএম
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার (১৫ নভেম্বর) আয়োজিত খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো তৌহিদি জনতা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি শীর্ষ আলেম ও রাজনীতিকরা বক্তব্য রাখেন। মূল দাবি ছিল কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা।
মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী চার দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচিগুলো হলো:
১. আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সর্বস্তরের আলেম ও তৌহিদি জনতার অংশগ্রহণে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলবে।
২. মে ও জুন মাসজুড়ে প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
৩. জুলাই থেকে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সারাদেশে বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
৪. যদি কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা না করা হয়, তবে ডিসেম্বর ২০২৬-এ দেশের শীর্ষ উলামা-মাশায়েখ মিলিত হয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এছাড়া সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামা-মাশায়েখের উপস্থিতিতে ছয় দফা ঘোষণা পাঠ করা হয়। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ইসলামের মৌলিক আকিদা ‘খতমে নবুওয়ত’ অস্বীকারকারী কাদিয়ানিরা মুসলিম উম্মাহ থেকে অমুসলিম। তাই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম নাগরিকের ধর্মীয় সুরক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা জরুরি।
ঘোষণাপত্রে কাদিয়ানিদের জন্য নির্দিষ্ট ছয়টি বিধান তুলে ধরা হয়:
১. কাদিয়ানিরা ‘আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ নামে পরিচয় দিতে পারবে না, তাদেরকে ‘কাদিয়ানি সম্প্রদায়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
২. ইসলামি পরিভাষা ব্যবহার নিষিদ্ধ, যেমন নামাজ, রোজা, যাকাত, আজান, ঈদ, কোরবানি ইত্যাদি।
৩. উপাসনালয় ‘মসজিদ’ হিসেবে নামকরণ করা যাবে না; ইসলামি নিদর্শন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
৪. মুসলিমদের সঙ্গে কাদিয়ানিদের বিবাহ হারাম।
৫. কাদিয়ানিদের জানাজা পড়া যাবে না, কবরস্থানে দাফন করা যাবে না; উত্তরাধিকার প্রযোজ্য হবে না।
৬. ইসলাম প্রচারের নামে কোরআনের বিকৃত অনুবাদ বা বই, লিফলেট, পুস্তিকা প্রকাশ ও প্রচার নিষিদ্ধ।
ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের ধর্মীয় সুরক্ষা, কাদিয়ানিদের সংখ্যালঘু অধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে অবিলম্বে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।