বিএনপির ত্যাগী কর্মী দাবি নিয়ে সভায় হট্টগোল, ফেরার পথে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠকে নিজেকে ‘ত্যাগী কর্মী’ দাবি করাকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের জেরে ফেরার পথে মিজানুর রহমান রনি ওরফে কানা মিজান (৩৫) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার সংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ জানায়, নিহত মিজানের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। তিনি কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে এবং দুই সন্তানের জনক।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। ওই বৈঠকে মিজান উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী দাবি করলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে ধাওয়া দেওয়া হয় এবং তিনি বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন।
পরে কালিরহাট বাজারের উত্তর পাশে কাজী বাড়ির সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করে। সেখানে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করা হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা মরদেহ সড়কের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর নিহতকে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজার এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করে বলে অভিযোগ ওঠে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
খবর পেয়ে কবিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, নিহতের পাশে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি টিপ ছুরি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেন, মিজানকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আইন হাতে তুলে নিয়ে এভাবে কাউকে হত্যা করা মেনে নেওয়া যায় না।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, বৈঠকে মিজান এলে কথাকাটাকাটি হয় এবং পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান। এরপর কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন। মিষ্টি বিতরণের বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে জানান।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, গণপিটুনিতে মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।