কক্সবাজারে বিএনপি ছেড়ে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামে যোগদান
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৭ এএম
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী বাজারে দাঁড়িপাল্লা মার্কার নির্বাচনি সভায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামে যোগ দেন।
যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল হক ভুলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু ছৈয়দ এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ। এছাড়া, পালংখালী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উখিয়া–টেকনাফ-৪ সংসদীয় আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী নুর আহমেদ আনোয়ারীর হাতে জামায়াতে ইসলামে যোগ দেন।
নির্বাচনি সভায় বক্তব্য রাখেন নুর আহমেদ আনোয়ারী। তিনি বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রত্যাশা করছে। নৈতিকতা ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমেই এই প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব।
তিনি যোগ করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত হওয়া জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এছাড়া উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক শান্তি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িপাল্লা মার্কারের পক্ষে কাজ করতে হবে।
নতুন যোগদানকারীরা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা হয়রানির শিকার। পালংখালী ইউনিয়নে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও চাপ প্রয়োগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এসব কারণে তারা নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমেদ আনোয়ারী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার করার অঙ্গীকার করা হয়।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও হয়রানিমুক্ত রাজনীতি চায়। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই মানুষ স্বেচ্ছায় জামায়াতে ইসলামে যোগ দিয়েছে। অন্যদিকে, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দাবি করেন, “যারা জামায়াতে যোগদান করেছে, তারা কেউই বিএনপির নেতাকর্মী নয়।”