শিক্ষককে বাঁচাতে ‘সময়ক্ষেপণ’ প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসন

৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী হয়রানি: তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা, বিচারহীনতার আশঙ্কায় ফুঁসছে এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৪০ পিএম

ছবি: মনোযোগ প্রকাশ

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম যৌন হয়রানির ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্তে মারাত্মক ধীরগতি দেখা দিয়েছে। স্কুল এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, নির্ধারিত সময় পার হওায়ার পরও কোনো কমিটিই প্রতিবেদন জমা দেয়নি। শিক্ষককে শাস্তি থেকে বাঁচাতে শিক্ষকদের একাংশ মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয় জনতা এই প্রক্রিয়াকে 'বিচারহীনতার প্রহসন' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

আরো পড়ুন: শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

শিক্ষার্থী হয়রানির অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসনিক তৎপরতা হিসেবে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে, ঘটনার পরদিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু হান্নান স্বাক্ষরিত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে আহ্বায়ক হিসেবে রাখা হয় সহকারী শিক্ষক সামছুল আলমকে। সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময় পার হলেও এখনও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে পারেনি তদন্তকারী সদস্যরা।

ঘটনার একদিন পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়৷ সেখানে আহ্বায়ক করা হয় উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার গোলাম কিবরিয়াকে। এ কমিটির প্রতিবেদন জমার কথা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। তারাও প্রতিবেদন জমা দিতে হয়েছেন ব্যর্থ।

দু'টি কমিটির সাত দিনের সময়সীমা পেরিয়ে আজ নয় দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কোনো কমিটির পক্ষ থেকে অগ্রগতি জানানো হয়নি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উভয় কমিটির আহ্বায়করা অজুহাত দিয়ে জানায়, 'পূজায় স্কুল বন্ধ হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি তারা। স্কুল খোলার পরই তদন্ত কার্য শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।"

একই কথা জানায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে এলাহীও।

অথচ, স্থানীয়রা বলছে, এমন একটি স্পর্শকাতর ঘটনার তদন্তের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার অপেক্ষা করা অযৌক্তিক। এই কালক্ষেপণ অভিযুক্ত শিক্ষককে আড়াল করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষককে যে, কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, সেটির জবাব বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, রফিকুল ইসলাম কেবল যৌন হয়রানির অভিযোগেই অভিযুক্ত নয়, তার পেছনে আছে মাদক ব্যবসার ইতিহাস ও মামলা। স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে তাকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলাও দেয় পুলিশ। স্থানীয়রা আরো জানায়, সীমান্তের কাছাকাছি বাড়ি হওয়ায় তিনি ভারত থেকে সরাসরি মাদক এনে সরবরাহ করতেন রফিকুল ইসলাম।

মাদক কারবারি সাথে জড়িত থাকা সত্ত্বেও তাকে রক্ষা করার প্রশাসনিক প্রবণতায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, এই তদন্ত কমিটিগুলো কেবলই লোক দেখানো আর কিছু না।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান শুরু থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এর আগে তিনি অ্যাসেম্বলির সময় মাইকে ঘোষণা দেন, "শিক্ষক রফিকুল ইসলাম এই স্কুলেই থাকবে।" তদন্তে এই ধীরগতি তার সেই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এবিষয়ে জানতে সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নানকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা না হয় এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হয়, তবে তারা কঠোর আন্দোলনে নামবে। প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিচারহীনতার এক নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, যা ছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970