টানা ৪ দিন বিদ্যুৎহীন মাদারগঞ্জের ৩০ হাজার মানুষ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৩ এএম
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে টানা চার দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন অন্তত ১৫টি এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। গত শনিবার গভীর রাতে ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও এখনো তা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কড়ইচড়া ইউনিয়নের ছালাবান্দা, ছোট ভাংবাড়ি, মহিষবাথান, পূর্ব মহিষবাথান, লালডোবা, পূর্ব নলছিয়া, ইলশামারী, চরগুজামানিকা ও বাগলেরগড়; চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দিকপাড়া; বালিজুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব তারতাপাড়া; জোড়খালী ইউনিয়নের খিলকাটি পশ্চিমপাড়া এবং গুনারীতলা ইউনিয়নের উত্তর জোড়খালী গুনারীতলা পূর্বপাড়াসহ অন্তত ১৫টি গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা চার দিন বিদ্যুৎ না থাকায় জীবনযাত্রা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। লালডোবা এলাকার আমিনুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করতে পারছে না পরীক্ষার্থীরা। মোবাইল চার্জ দিতে না পেরে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে, ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হয়ে গেছে।
পূর্ব তারতাপাড়া এলাকার জিহাদ আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। এতে দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ছালাবান্দা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও দ্রুত সমাধান মিলছে না। চার দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় কষ্টের শেষ নেই।
এসএসসি পরীক্ষার্থী রায়হান আহমেদ বলেন, পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। অনেকেই মোমবাতি বা চার্জার লাইটে কোনোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।
খিলকাটি এলাকার কামরুল ইসলাম বলেন, ঝড়ের পর এতদিনেও বিদ্যুৎ না ফেরায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন জানান, ঝড়-বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো মেরামতে কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, কিছু এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা গেলেও জনবল সংকট ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মেরামতকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।