নড়াইলে বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে ৭ সন্তানের জন্ম, বেঁচে নেই কেউ

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নড়াইলে এক মায়ের গর্ভে একসঙ্গে ৭টি সন্তানের জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি ছেলে ও ৩টি মেয়ে সন্তান। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তবে দুঃখজনকভাবে জন্ম নেওয়া সাত নবজাতকের কেউই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালি গ্রামে। ওই গ্রামের ইজিবাইক চালক মহাসিন মোল্লা ও গৃহবধূ সালমা দম্পতির ঘর আলো করে একসঙ্গে সাতটি সন্তানের জন্ম হয়।

বিয়ের ১০ বছর পর তারা প্রথমবার সন্তানের মুখ দেখেন। আলট্রাসনোগ্রাফিতে ৬টি সন্তানের কথা জানা গেলেও বাস্তবে ৭টি নবজাতকের জন্ম হয়। তবে জন্মের পরই সবাই মারা যায়।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নবজাতক সাত শিশুকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে যশোরের একটি হাসপাতালে প্রথমে দুইটি সন্তান জন্ম নেয়। পরদিন বুধবার রাতে আরও পাঁচটি সন্তান একে একে ভূমিষ্ঠ হয়। তবে সবগুলোই অপরিপক্ব অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

নবজাতকদের মা সালমা বেগম এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের আগেই প্রসব করেন, যার কারণে শিশুদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

নবজাতকদের দাদি মঞ্জুরা খাতুন বলেন, সোমবার রাতে প্রসব ব্যথা শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই সন্তানদের জন্ম হয়।

দাদা আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, ১০ বছর পর সন্তান পাওয়ার আশা ছিল পরিবারের সবার, কিন্তু একসঙ্গে সাত সন্তান জন্ম নিয়েও কেউ বাঁচল না—এটা তাদের জন্য বড় কষ্টের।

স্থানীয় শিক্ষক আবু সেলিম বলেন, সাত সন্তানের জন্মের খবর এলাকায় ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছিল, কিন্তু মৃত্যুর ঘটনায় সবাই শোকাহত।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মন্ডল জানান, শিশুগুলো অত্যন্ত অপরিপক্ব অবস্থায় জন্ম নেয়। তাদের ওজন খুব কম ছিল এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পূর্ণভাবে গঠিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা দিয়েও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970